মোচা ঠিক কত দূরে? স্মার্টফোন, কম্পিউটারে কীভাবে ট্র্যাক করবেন ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ?

ক্রাইম ইন্ডিয়া সংবাদদাতা : দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আজ থেকেই সেই ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপের চেহারা নেবে। আর দিন দুয়েকের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে তা ঘূর্ণিঝড় মোচার রূপ নেবে বলেই আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাসে জানিয়েছেন। এই ঘূর্ণিঝড়ের গতি কত, অভিমুখই বা কোনদিকে হবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলেনি মৌসম ভবন। তবে, বাংলা ও ওড়িশায় এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপট কতোটা হবে অথবা বাংলায় এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে কিনা তা নিয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য দেয়নি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, মঙ্গলবারের গভীর নিম্নচাপ বুধবার সকাল সাড়ে ৫ টা নাগাদ অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তখন এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার। এরপর আগামী ১২ তারিখ মোচা আছড়ে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। সেই সময় এর গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদদের আর একাংশের মতে এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের সময় হাওয়ার গতিবেগ থাকবে প্রায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তবে তা বাংলার উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। এদিকে, মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তারপর বৃহস্পতিবার উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিক বরাবর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে। এর পরই ‘মোকা’র পথ বদল হতে পারে। বাঁক নিয়ে তা উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক বরাবর বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে এগোতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত কোন পথ ধরে এগোবে ‘মোচা’, তা নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে মৌসম ভবন। ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। মনে করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষেই স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে ‘মোকা’। ঘূর্ণিঝড় কোন পথ ধরে এগোবে, কবেই বা আছড়ে পড়বে, এই নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আপডেট দিচ্ছে হাওয়া অফিস। চাইলে যে কেউ নিজেই ঝড়ের গতিবিধি জানতে পারবেন। কীভাবে? বেশ কিছু ‘সাইক্লোন ট্র্যাকার’ রয়েছে। বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে সাইক্লোন (Cyclone Mocha) উত্তরমুখী হয়ে এগোবে। তবে, এই ঘূর্ণিঝড় কতদূরে, কীভাবে কোন পথে এগোচ্ছে, জানতে পারেন আপনিও ঘরে বসেই। সাইক্লোনের গতিবিধি দেখে নেওয়া যেতে পারে স্মার্টফোনেই। এই প্রতিবেদনে রইল ঘূর্ণিঝড় ট্র্যাক করার সহজ উপায়। এমনিতেই এর আগে আমফান, ইয়াস, ফণীর তাণ্ডবে তছনছ হয়েছে বাংলা। তাই নয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের নামে আতঙ্কে বঙ্গবাসী। যদিও এর বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। এবার নিজের স্মার্টফোন থেকে সহজেই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান দেখবেন কী ভাবে, জেনে নিন- Rainviewer.com নামে একটা ওয়েবসাইট আছে। এই ওয়েবসাইটে গেলে সাইক্লোনের রিয়েল টাইম ডেটা জানতে পারবেন। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে কেমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, নিম্নচাপের অবস্থান কোথায়, কীভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় তার সবটাই ট্র্যাক করা যাবে এই ওয়েবসাইট থেকে। ওয়েবসাইটটিতে একটি ব্যারোমেট্রিক প্রেসার চার্ট আছে। সেখান থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতিও বোঝা যাবে। এছাড়াও বেশ কিছু ‘সাইক্লোন ট্র্যাকার’ রয়েছে। যেখানে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যতম ‘জুম আর্থ’। ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নানা আপডেট জানা যাবে এখান থেকে। কোন এলাকায় আঘাত হানতে পারে ঝড়, তা জানা সম্ভব এই ট্র্যাকারের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, ঝড়ের বেগ কত, তাপমাত্রা কেমন থাকবে তখন, তা-ও জানা যাবে এই ওয়েবসাইট মারফত। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সহজেই এই ওয়েবসাইট থেকে ঝড় সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে। ঘূর্ণিঝড় মোচা নিয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের পূর্ব উপকূলের ৪টি রাজ্যকে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। সূত্রের খবর, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে ইতিমধ্যেই, যা ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। ৯ মে এটি সাইক্লোনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। যদিও বাংলায় এর প্রভাব পড়বে কিনা, পড়লে কোথায় পড়বে, সে বিষয়ে কিছুই বিশদে এবং স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু আমফান এবং ইয়াসের ভয়াবহ স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুত প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এই ঝড়ের মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে লালবাজারে খোলা হল ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম’। পুলিশ সূত্রে খবর, চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকবে এই কন্ট্রোল রুম। তিনটি শিফটে কাজ করবে এই টিম। ৭ মে থেকে এই কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে আগামী ১২ মে পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, এক ছাদের তলায় বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে এই বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে রয়েছে এক একটি আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্ট বা বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে, DMG, KMDA, NDRF, KMC, CESC, HRBC, ফায়ার সার্ভিসের মতো একাধিক ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা রয়েছেন। দুর্যোগের সম্মুখীন হলে যে কেউ হেল্প লাইন নম্বরে ফোন করতে পারবেন। আর সেই অনুযায়ী, দ্রুত ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুলিশ। দেওয়া হয়েছে একাধিক হেল্পলাইন নম্বরও। পাশাপাশি চালু করা হয়েছে একটি whatsapp নম্বর। ঘূর্ণিঝড় মোচার মোকাবিলায় কন্ট্রোলরুম গুলির নম্বর হল- 2214 – 1890,2250- 5033, 2250-5044,2250- 5146 । আর হোয়াটস অ্যাপ নম্বর 9432610450। এই সব নম্বর ছাড়াও স্থানীয় থানাতেও জানানো যাবে যে, ঘূর্ণিঝড় মোচার কারণে কোনও অসুবিধায় পড়লেই।

Edited by : Raees Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Post

Live Cricket Update

You May Like This