ক্রাইম ইন্ডিয়া সংবাদদাতা : রাত বাড়লেই কাজ বাড়ত তার। সন্ধের পর যখন বাকি শ্রমিকরা ঝুপড়িতে ফিরে আসত, তখন আকণ্ঠ মদ খেয়ে টলতে টলতে বেরিয়ে পড়ত রবিন্দর কুমার, শিকার খুঁজতে। সেই ‘শিকার’ হল শিশুরা, যাদের ১০ টাকার নোট কিংবা মিষ্টির লোভ দেখিয়ে সে তুলে নিয়ে যেত ফাঁকা জমি কিংবা নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে (He hunted for kids)। সেখানেই তাদের ধর্ষণ করে খুন করত সে। এমনকী, সেই ‘শিকার’ খুঁজতে দিনে ৪০ কিলোমিটার অবধি হেঁটেও যেত সে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে হরিয়ানা পর্যন্ত ভারতের একাধিক রাজ্যে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে অন্তত ৩০ জন শিশু তার লালসার শিকার হয়েছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনের বয়স ছিল ১২ বছর। আর সবচেয়ে ছোট জনের? মাত্র ২ বছর। তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়নি মৃতদেহও!২০১৫ সালে দিল্লির রোহিনী এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে রবিন্দরকে। ৬ বছরের একটি মেয়ের হত্যা রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তারপর তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল দিল্লির তিহাড় জেলে। এত বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে গত শনিবার ওই নাবালিকা খুনের ঘটনায় রবিন্দরকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তাকে জেরা করতে গিয়েই একের পর এক এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যাতে হাড় হিম হয়ে গেছে দুঁদে পুলিশকর্তাদেরও। নিজের মুখেই ৭ বছর ধরে চালিয়ে আসা নিজের অজস্র খুন-ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রবিন্দরের সঙ্গে কথা বলার সময় শিউরে উঠেছিলেন তাঁরা। নিজের যাবতীয় কুকীর্তির কথা সে উগরে দিয়েছিল, তাও একেবারে ভাবলেশহীন মুখে। রবিন্দরের ছোটবেলা কেটেছিল উত্তরপ্রদেশের কাশগঞ্জ এলাকায়। তার বাবা ছিলেন একজন মিস্ত্রি, মা লোকের বাড়িতে কাজ করতেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই রবিন্দর বুঝেছিল, সমাজের একেবারে নিচুতলার শ্রমিক-মজুরদের ছেলেমেয়েরা ঠিক কতটা অসুরক্ষিত। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে লেখাপড়া ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত। একটু বড় হওয়ার পর নিজেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। বন্ধু-সহকর্মীদের সঙ্গে বসেই এক সময় ডিভিডি প্লেয়ারে হরর পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু হয়। সেই থেকেই প্রথম প্রকাশ পায় তার বিকৃত যৌন কামনা। কাজের সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে শুরু করে সে। সন্ধ্যা হলেই মদ কিংবা ড্রাগের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ত রবিন্দর। রাত আটটা বাজলেই টলোমলো পায়ে বের হত শিকার খুঁজতে। মূলত গরীব, নিম্নবর্গের শিশুরাই ছিল তার টার্গেট। ঝুপড়ি, বস্তি এলাকার বাচ্চাদের লোভ দেখিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করত সে। মেয়েদের পাশাপশি ছেলেরাও তার লালসার হাত থেকে ছাড় পায়নি। পুলিশের দাবি, রবিন্দর যে শুধু শিশুকামী অর্থাত্ পিডোফাইল (paedophail) ছিল, তাই-ই নয়। নেক্রোফিলিকও ছিল সে। বহু ক্ষেত্রেই তার ‘শিকার’রা বেশি চিত্কার কিংবা কান্নাকাটি করলে আগেই তাদের খুন করত সে। তারপর মৃতদেহের সঙ্গেই চলত উদ্দাম সঙ্গম। প্রথম ৩-৪টি অপরাধের পরেও ধরা না পড়ায় তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। তারপর উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লির একাধিক জায়গা থেকে শিশুদের খুঁজে এনে সে বিকৃত যৌন বাসনা চরিতার্থ করত। টানা ৭ বছর ধরে সে এই জঘন্য অপরাধ করেই যাচ্ছিল।শেষমেশ ২০১৫ সালে পুলিশের জালে ধরা পড়ে ২৪ বছর বয়সি এই জঘন্য অপরাধী। তারপর দিল্লির তিহাড় জেলে ঠাঁই হয়েছিল তার। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মামলা চলার পর একটি মামলায় শনিবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। পুলিশের পক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে তার সাজা ঘোষণা করবে আদালত।
Edited By : Raees Khan











Total Users : 71613
Total views : 73122