মইনপুরী, ক্রাইম ইন্ডিয়া সংবাদদাতা : একটি বারান্দা, একটি উঠান, একটি ঘর, তার উপর একটি ছাদ এবং সেখানে আরেকটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগেও অভিনন্দন ধ্বনিত হচ্ছিল। বিয়ের আনন্দে নাচ-গান আর গান-বাজনা বেজে উঠছিল। একই এক হাজার ফুটের ঘরে ভোরবেলা করুণ ক্রদনের কোলাহল সবার হৃদয় কেড়ে নেয়। রক্তে ভেজা লাশ। বাড়ির বারান্দা থেকে উঠান এবং তারপর বারান্দা পর্যন্ত রক্তাক্ত দৃশ্য রক্তাক্ত খেলার সাক্ষ্য দেয়। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যেই গোকুলপুরে পৌঁছেছিল, এই দৃশ্য দেখে তার হৃদয় কেঁপে ওঠে।তহসিল সদর দপ্তর কিশনী থেকে চার কিলোমিটার দূরে কুসমারা সড়কে অবস্থিত গোকুলপুর গ্রামের জনসংখ্যা ১৫০০। যাদব অধ্যুষিত এই গ্রামে গত ১০ বছরে খুনের কথাই বলা যাক, বড় কোনো লড়াইয়ের ঘটনা সামনে আসেনি। এমতাবস্থায় ভোর চারটার দিকে গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া মানিগাঁও সড়কের পাড়ে সুভাষ যাদবের বাড়ি থেকে চিৎকার ভেসে আসে এবং গ্রামবাসীর ঘুম ভেঙে যায়। সবাই দৌড়ে সেখানে গেলে চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। বারান্দায় আহত সুভাষ যাদব, তার পুত্রবধূ ডলি ও আত্মীয় সুষমা। গ্রামবাসীরা বারান্দা পেরিয়ে উঠানে পৌঁছলে সুভাষ যাদবের ছোট ছেলে ভুলন, তার বন্ধু দীপক উপাধ্যায় এবং জামাতা সৌরভের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ওপরের ছাদে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে অনেকেই চিৎকার করে ওঠেন। বর সাইনি ও কনে সোনির বিকৃত লাশ নৃশংসতার সাক্ষ্য দিচ্ছিল। তদন্তে আসা পুলিশ অফিসারদের হৃদয়ও এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যায়। তিনি বলেন, গণহত্যার অনেক ঘটনা তিনি দেখেছেন, কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড খুবই নৃশংস। গোকুলপুর গ্রামের বাসিন্দা হরেন্দ্র যাদব হত্যার কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত সবাই খুশি। এই পরিবারের সুখে গ্রামবাসীরাও অংশ নিল, কিন্তু কয়েক ঘণ্টায় কী হল? এমন কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। গ্রামের বাসিন্দা দলভীর জানান, গ্রামে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। শিববীর, যিনি হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন, অন্যদের সাথে কম কথা বলতেন, কিন্তু কেউ অনুমান করতে পারেনি যে তিনিও একই কাজ করতে পারেন।
Edited By : Raees Khan











Total Users : 71606
Total views : 73115